বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ইরানে সরকার পতন সম্ভব নয়: ইসরায়েলের ‘অসহায়’ স্বীকারোক্তি হরমুজ প্রণালিতে ৩ জাহাজে ভয়াবহ হামলা: একটিতে আগুন, নাবিকদের উদ্ধার সালথায় আওয়ামী আমলের সারের ডিলার বাতিলের দাবিতে উত্তাল মানববন্ধন ঝুঁকিপূর্ণ মিটারে অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্ক: ধামরাইয়ে নতুন সংযোগ দিতে পল্লী বিদ্যুতের গড়িমসি ও মালিকপক্ষের অসহযোগিতার অভিযোগ জমে উঠেছে ইসলামপুর ঈদের বাজার, খুশি ব্যবসায়ীরা ॥ ইবাদতে চাই পূর্ণ মনোযোগ: রমজান হোক আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের মাস নেতানিয়াহুর ‘মৃত্যু’ নিয়ে ধোঁয়াশা: ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবিকে ‘গুজব’ বলছে ইসরায়েল ২০৪২ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকবেন তারেক রহমান: জয়নুল আবদিন ফারুক

একজন আদর্শ শিক্ষক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন

একজন আদর্শ শিক্ষক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন

আনোয়ার হোসেন ফরিদ,ফটিকছড়ি ॥ শিক্ষা কেবল পেশা নয়, এটি এক আজীবনের ব্রত এ বিশ্বাসকে জীবনমন্ত্র করে নিয়েছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির গর্ব মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোর মশাল জ্বালিয়ে যাচ্ছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে।

১৯৭৬ সালের ৮ অক্টোবর দাঁতমারা ইউনিয়নের হাসনাবাদ (খোশানপাড়া) গ্রামে জন্ম নেওয়া এই শিক্ষক বেড়ে উঠেছেন এক ঐতিহ্যবাহী, শিক্ষিত ও ধর্মভীরু পরিবারে। পিতা ছৈয়দুল হক নির্ভীক সমাজসেবক, ন্যায়পরায়ণ সমাজপতি। মা শামসুন নাহার সহজ-সরল, মমতাময়ী গৃহিণী। দশ ভাই-বোনের কনিষ্ঠ দেলোয়ার শৈশব থেকেই শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিকতার পাঠ শিখেছেন পারিবারিক আবহে।

শিক্ষা জীবন শুরু নারায়ণহাট ডেভেলপমেন্ট হাই স্কুলে। ১৯৯১ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসি, ১৯৯৪ সালে নাজিরহাট ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৯৭ সালে বিএসসি পাস। এরপর ২০০১ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে প্রথম মাস্টার্স এবং ২০১৯ সালে একই বিষয়ে দ্বিতীয় মাস্টার্স অর্জন করেন। শিক্ষকতা দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ২০০২-২০০৬ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম পিটিআই থেকে প্রথম বিভাগে প্রশিক্ষণ নেন এবং ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষে গণিত বিষয়ে টিচারস অব ট্রেইনার (ঞঙঞ) সার্টিফিকেট অর্জন করেন।

১৯৯৮ সালে প্রথম বারের মতো ব্ল্যাকবোর্ড হাতে দাঁড়ান হাটহাজারী ফতেয়াবাদ বটতলী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় গণিত শিক্ষক হিসেবে। ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর যোগ দেন দক্ষিণ ধর্মপুর ইসহাক শরীফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ২০০৪ সালে স্থানান্তরিত হন ফটিকছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেখানে তিনি আজও অবিচল নিষ্ঠায় পাঠদান করে যাচ্ছেন।

দেলোয়ার হোসেনের শ্রেণিকক্ষ যেন পাঠশালা নয়, বরং আনন্দ ভুবন। গল্প, ছড়া, ধাঁধাঁ, কৌতুক সবকিছুর মিশেলে তিনি শিক্ষা দেন প্রাণবন্ত করে। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস “ছাত্রছাত্রীরা বেহেশতের প্রজাপতি। তাদেরকে নিজের সন্তান মনে করে পড়ালে তবেই একজন শিক্ষক আদর্শ হতে পারেন।”

বিদ্যালয়ের বাইরে তিনি সমাজেরও আলোকবর্তিকা। সময়ানুবর্তিতা, মানবিকতা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধে তিনি এক অনন্য উদাহরণ। শিশুদের সম্ভাবনার আলো খুঁজে বের করাই তাঁর জীবনের সার্থকতা। পরিবারেও তিনি সমান নিবেদিত প্রাণ। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের স্নেহময় পিতা, আর একজন পর্দানশীল ও সহৃদয় গৃহিণীর জীবনসঙ্গী।

শিক্ষকতা শুধু পেশা নয়, এটি মাদকাতে-জারিয়া এক চিরস্থায়ী সওয়াবের পথ। প্রতিদিন তিনি নিজেকে শাণিত করেন, যেন প্রতিটি শিক্ষার্থী কেবল পাঠে নয়, মানবিকতাতেও হয়ে ওঠে আদর্শ নাগরিক। মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন নিঃসন্দেহে একজন শিক্ষক, যিনি পাঠ দেন বই থেকে, কিন্তু আলো ছড়ান হৃদয় থেকে। তাঁর জীবনগাঁথা প্রমাণ করে, এক আদর্শ শিক্ষক একটি প্রজন্মের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com